মাইটোকন্ড্রিয়া কি? একে কোষের শক্তি ঘর (পাওয়ার হাউস ) বলা হয় কেন?

মাইটোকন্ড্রিয়া কি?

প্রকৃত জীবকোষের গুরুত্বপূর্ণ্ অঙ্গাণু হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের ‘পাওয়ার হাউস’ বা শক্তিঘর বলা হয়। এ অঙ্গালণুতে ক্রেবস্ চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট প্রক্রিয়া প্রভৃতি ঘটে থাকে। দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী ঝিল্লি দ্বারা সীমিত সাইটোপ্লাজমস্থ যে অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট ইত্যাদি ঘটে থাকে এবং শক্তি উৎপন্ন হয় সেই অঙ্গাণুকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে। 


মাইটোকন্ড্রিয়া আবিষ্কার ও নামকরণ 

কলিকার ১৮৫০ সালে আলোক অণুবীক্ষণের সাহায্যে সাইটোপ্লাজমে নানা আকৃতিবিশিষ্ট এসব অঙ্গাণু আবিষ্কার করেন কোষে সুতাকৃতির মাইটোকন্ড্রিয়া প্রত্যক্ষ করেন এবং ফিলা নামকরণ করেন। Altman এদের বায়োপ্লাস্ট নামকরণ করেন। কার্ল বেন্ডা এ অঙ্গাণুগুলোকে মাইটোকন্ড্রিয়া নামকরণ করেন । কোষের সাইটোপ্লাজমে এরা বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান করে, কোষ আয়তনে প্রায় ২০ ভাগ হলো মাইটোকন্ড্রিয়া।


মাইটোকন্ড্রিয়া কি? একে কোষের শক্তি ঘর (পাওয়ার হাউস ) বলা হয় কেন?


উৎপত্তি : বিভাজনের মাধ্যমে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি হয়ে থাকে। কোষে একটিমা্ত্র মাইটোকন্ড্রিয়ন থাকলে তা কোষ বিভাজনের সাথেই বিভাজিত হয়ে থাকে।


সংখ্যা : প্রকারভেদে প্রতি কোষে এক হতে একাধিক থাকতে পারে। সাধারণত গড়ে প্রতি কোষে ৩০০ হতে ৪০০ টি মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে। [যকৃত কোষে ১০০০ বা ততোধিক থাকে।]


আকৃতি : আকৃতিতে এরা বৃত্তাকার, দণ্ডাকার, তন্তকার ( সূত্রাকার), তারকাকার ও কুণ্ডলী আকার হতে পারে।


আয়তন : বৃত্তাকার মাইটোকন্ডিয়ার ব্যাস ০.২ – ২.০ মাইক্রন। সূত্রাকার মাইটোকন্ড্রিয়ার দৈর্ঘ্য ৪০ থেকে ৭০ মাইক্রন। দণ্ডাকার মাইটোকন্ড্রিয়ার দৈর্ঘ্য ৯ মাইক্রন ও প্রস্থ ০.৫ মােইক্রন পর্য়ন্ত হতে পারে।


মাইটোকন্ড্রিয়ার ভৌত গঠন : নিম্নলিখিত অংশ নিয়ে মাইটোকন্ড্রিয়া গঠিত :

১। আবরণী : প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়ন লিপোপ্রোটিন বাইলয়ারের দুটি মেমব্রেন নিয়ে গঠিত। বাইরের মেমব্রেনটি খাঁজবিহীন, মূলত ভেতরের অংশসমূহকে রক্ষা করাই এর প্রধান কাজ। বাইরের মেমব্রেন ভেদ করে বিভিন্ন ক্ষুদ্র অণু এবং আয়ন ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, আবার বের হয়ে যেতেও পারে। এতে কিছু ট্রান্সপোর্ট প্রোটিন থাকে যা প্রয়োজনে সক্রিয় ট্রান্সপোর্ট সহায়তা করে। এতে কোনো ETC, ATP Synthases, ATP তৈরির ৈএনজাইম ইত্যাদি থাকে না। এর কাজ মূলত রক্ষণাত্নক। দুটি আবরণীর মধ্যে ব্যবধান ৬-৮ nm।


২। প্রকোষ্ঠ : দুই মেমব্রেনের মাঝখানের ফাঁকা স্থানকে বলা হয় বহিস্থ কক্ষ বা আন্তঃমেমব্রেন ফাঁক এবং ভেতরের মেমব্রেন দিয়ে আবদ্ধ অঞ্চলকে বলা হয় অভ্যন্তরীণ কক্ষ। ভেতরের প্রকোষ্ঠ জেলীয় ন্যায় ঘন  সমসত্ত্ব পদার্থ বা ধাত্র দ্বারা পূর্ণ থাকে। এই ধাত্র পদার্থকে ম্যাটিক্স বলে।


 

আরো পড়ুন: ক্লোরোপ্লাস্ট কাকে বলে | ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন ও কাজ বিস্তারিত

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post