আর এইচ হুইটেকার এর পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ

যে সকল জীব পরভোজী, সচল, নির্দিষ্ট দেহাকৃতি বিশিষ্ট, উত্তেজনায় সাড়া প্রদান করে এবং সেলুলোজ নির্মিত কোষ প্রাচীর থাকে না তাদেরকে সাধারণত প্রাণী হিসাবে চিহিৃত করা হয়। অন্যভাবে বলা যায়- যেসব ইউক্যারিওটিক জীব সাধারণত ক্লোরোফিল বহন করে না ও নিজ দেহে খাদ্যের সংশ্লেষণ ঘটাতে পারে না এবং খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্যের উপর নির্ভরশীল থাকে তাদেরকে প্রাণী বলে। উদাহরণস্বরুপ- মানুষ, ব্যাঙ, ইত্যাদি।

নিম্নশ্রেণীর অনেক প্রাণী রয়েছে যেমন ইগলিনা () যাদের দেহে ক্লোরোফিল বিদ্যমান, ফলে এরা খাদ্য সংশ্লেষণে সক্ষম। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য হুইটেকার ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে পাঁচ জগৎ () বিশিষ্ট শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির প্রচলন করেন। তিনি সব ধরনের জীবকে পাঁচটি রাজ্যে বিভক্ত করেন। নিচে আর এইচ হুইটেকার এর পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ দেওয়া হল:

আর এইচ হুইটেকার এর পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাস

রাজ্য-১: মনেরা (Monera)
রাজ্য-২: প্রোটিস্টা (Protista)
রাজ্য-৩: প্লান্টি (Plantae)
রাজ্য-৪: ফানজাই (Fungi)
রাজ্য-৫: অ্যানিমেলিয়া (Animalia)



আর এইচ হুইটেকার এর পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ



কিংডম-১: মনেরা রাজ্যের বৈশিষ্ট্য

ক. এরা এককোষী, ফিলামেন্টাস, কলোনিয়াল বা মাইসেলিয়াল।
খ. কোষে নিউক্লিয়ার পদার্থ থাকলেও নিউক্লিওলাস এবং নিউক্লিয়ার পর্দা নেই। 
গ. এদের কোষ বিভাজন অ্যামাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ঘটে।
ঘ. এদের খাদ্য গ্রহন প্রক্রিয়া প্রধানত শোষণ, কতক ফটোসিনথেটিক বা কিমোসিন্থেটিক প্রকৃতির।
ঙ. কোষপ্রচীর পলিস্যাকারাইড ও প্রোটিন দিয়ে তৈরি।

উদাহরণ - ব্যাকটেরিয়া।


কিংডম-২: প্রোটিস্টা রাজ্যের বৈশিষ্ট্য

ক. এরা এককোষী বা বহুকোষী। এককোষী জীবের এককভাবে বাস করে বা কলোনিয়াল এবং সুকেন্দ্রিক।
খ. কোষে নিউক্লিয়ার পর্দা ও নিউক্লিওলাসযুক্ত নিউক্লিয়াস বিদ্যমান।
গ. এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম প্রভৃতি বিদ্যমান।
ঘ. খাদ্যগ্রহন পদ্ধতি শোষণ, গলাধ:করণ বা ফটোসিন্থেটিক প্রকৃতির।
ঙ. এদের ভ্রণ সৃষ্টি হয় না।

উদাহরণ - প্রোটোজোয়া ও এককোষী শৈবাল।



কিংডম-৩: প্লান্টি রাজ্যের বৈশিষ্ট্য

ক. এরা বহুকোষী ইউক্যারিওটিক জীব।
খ. এরা স্বভোজী প্রধান সালোকসংশ্লেষী বর্ণকণিকা ক্লোরোফিল-এ এবং ক্লোরোফিল-বি উপস্থিত।
গ. সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে নিজেদের খাদ্য তৈরি করতে পারে।
ঘ. কোষপ্রচীর সেলুলোজ নির্মিত এবং কোষে প্রায়ই বৃহদাকার গহ্বর থাকে।
ঙ. ভ্রণ সৃষ্টি হয় এবং উন্নত ধরনের টিস্যুবিন্যাস বিদ্যমান।
চ. যৌন জনন অ্যানআইসোগ্যামাস, জননাঙ্গ ও জনন টিস্যু থাকে।

উদাহরণ - বহুকোষী শৈবাল ও উদ্ভিদ।


বায়োলজির আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।


কিংডম-৪: ফানজাই রাজ্যের বৈশিষ্ট্য

ক. প্রকৃত কোষী, অসবুজ তাই সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম বিধায়-পরজীবী বা মৃতভোজী।
খ. অধিকাংশই বহুকোষী এবং স্থলজ, কিছু সংখ্যক জলজ।
গ. এদের কোষপ্রচীর কাইটিন নির্মিত।
ঘ. খাদ্যগ্রহন শোষণ পদ্ধতির।
ঙ. দেহ সাধারণত শাখান্বিত, ফিলামেন্টযুক্ত, সিনোসাইটিক, প্রস্থপ্রাচীর যুক্ত বা মুক্ত।
চ. বংশ বৃদ্ধি সাধারণত হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে ঘটে।

উদাহরণ - মোল্ড, ঈস্ট, ইত্যাদি।


কিংডম-৫: অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের বৈশিষ্ট্য

ক. এরা বহুকোষী এবং প্রকৃত কোষী জীব, পুষ্টি ভিন্ন ভোজী স্বভাবের সাধারণত হলোজয়িক।
খ. কোষে কোন কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ও বৃহদাকার গহ্বর নেই।
গ. পরিপাক তন্ত্র বিদ্যমান। প্রায়ক্ষেত্রেই স্নায়ু, রেচন ও শ্বাসতন্ত্র আছে।
ঘ. অধিকাংশ প্রাণী চলাচলে সক্ষম এবং উদ্দীপনায় দ্রুত সাড়া দেয়।
ঙ. প্রধানত যৌন জনন হয়। অঙ্গজ জনন হয় না (ব্যতিক্রম: হাইড্রা)

উদাহরণ - স্পঞ্জ থেকে কর্ডাটা পর্যন্ত সকল প্রাণী অ্যানিমেলিয়ার অন্তর্ভক্ত।


*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

ADS

ADS