বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য কেমন? - বিসিএস ট্রিগার

আসসালামু আলাইকুম, আশা করছি সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক  বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করব। গত পর্বে আমরা আলোচনা করেছিলাম আগরতলা যড়যন্ত্র মামলার কারণ নিয়ে। 


বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য কেমন? - বিসিএস ট্রিগার
বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য


ভূ-প্রকৃতি কাকে বলে?

ভূ-প্রকৃতি বলতে মাটির গঠন বিন্যাসকে বোঝায়। পৃথিবীর উপরিভাগকে ভূপৃষ্ঠ বলে। পৃথিবীর কোনো দেশেরই ভূ-প্রকৃতি সমান নয়। কোথাও উচু আবার কোথায় নিচু কোথাও আবার সমতল ভূমি। আবার কোথাও সুউচ্চ পাহাড় এবং সুবিশাল পর্বতমালা সমূহ। পৃথিবীর এরুপ উচ্চ উচ্চ গঠনকে ভূ-প্রকৃতি বলে। 


ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে বাংলাদেশকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়।

১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ 

২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ

৩। সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি বা বিস্তৃতি পলিমাটির সমভূমি।



পড়ুন: বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বা সীমানা।



১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহের বৈশিষ্ট্য:

টারশিয়ারি যুগের সময়কাল হল আজ থেকে ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর থেকে ২০ লক্ষ বছর আগে পর্যন্ত। টারশিয়ারি যুগের পাহাড় সমূহ বাংলাদেশের ভূ-খন্ডের ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে গঠিত। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়কে আবার দু’ভাগে ভাগ করা হয়।


ক. উত্তর ও উত্তরপূর্বের পাহাড়সমূহ: কুমিল্লা, সিলেট, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ জেলার পাহাড়সমূহ এই অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত। এসব অঞ্চলের পাহাড়সমূহের গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।

খ. দক্ষিণপূর্বের পর্বতমালা সমূহ:  সমগ্র চট্রগ্রাম, কক্সবাজার জেলার কিছু অংশ নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত। এই অঞ্চলের পাহাড়সমূহের গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গের নাম টাজিংডং বা এর আরেক নাম বিজয়। এর উচ্চতা ১২৩১ মিটার বা ৪,০৩৫ ফুট। তাজিংডং পাহাড়ের অবস্থান হল বান্দরবান জেলায়। 

বাংলাদেশের ২য় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হল- কেওক্রাডং । এর উচ্চতা ১২৩০ মিটার বা ৪,০৩৪ ফুট।



২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:

২৫ হাজার বছর পূর্বের সময়কালকে প্লাইস্টোসিনকাল বলে। বাংলাদেশের মোট ভূ-খন্ডের শতকরা প্রায় ৮ ভাগ এলাকা নিয়ে প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ গঠিত। এ অঞ্চলকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়।

ক. বরেন্দ্রভূমি: দিনাজপুর, রাজশাহী, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও রংপুরের কিছু অংশ নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত। এর আয়তন প্রায় ৩,৬০০ বর্গমাইল বা ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার। প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬-১২ মিটার। এই অঞ্চলের মাটি গৈরিক, স্থূল ও বালুকাময়। 

খ. মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়: এই অঞ্চল প্রাচীন ব্রঙ্মপুত্র নদ হতে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। এ অঞ্চল মূলত ভাওয়ালের গড় নামে পরিচিত। এর আয়তন ১৬০০ বর্গমাইল বা ৪১০৩ বর্গকিলোমিটার। এ অঞ্চলের মাটি রক্তিম ও ধূসর।

গ. লালমাই পাহাড়: এটি কুমিল্লার লালমাই থেকে ময়নামতি পর‌্যন্ত বিস্তৃত। এর আয়তন ৩৪ বর্গকিলোমিটার। লালমাই পাহাড়ের উচ্চতা ২১ মিটার। এর মাটি লালচে এবং নুড়ি, বালি ও কঙ্কর দ্বাড়া গঠিত। 


৩। সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি: 

দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ ভূমি এ অঞ্চলের অন্তর্ভক্ত। এর আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ০৯ মিটারের কম। এই অঞ্চল পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি নদনদী ও এদের অসংখ্যা উপনদী ও শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বাড়া গঠিত। বার্ষিক প্লাবনের ফলে বহুস্থানে অগভীর জলাভূমি সৃষ্টি হয়েছে। এগুলোকে হাওড় বলে। এ অঞ্চলের উপকূল ভাগ অত্যন্ত আঁকাবাঁকা, ফলে অসংখ্যা বদ্বীপের সৃষ্টি হয়েছে। এগুলোর মধ্যে হাতিয়া, সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী অন্যতম। সমভূমির অঞ্চলকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। 

ক. পশ্চিম বদ্বীপ সমভূমি: কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুরের উত্তরাংশ অন্তর্ভূক্ত।

খ. পূর্ব বদ্বীপ সমভূমি: মধ্য ও দক্ষিণ ফরিদপুর এবং বরিশাল অন্তর্ভূক্ত।

গ. বদ্বীপ মোহনা: সুন্দরবন ও দক্ষিন পশ্চিম বরিশাল। 


বাংলাদেশের এ অঞ্চলের মাটি খুব উর্বর। ফলে কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের ভূমিকা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।


আরো পড়ুন: যুক্তফ্রন্ট গঠনের পটভূমি ও পেক্ষাপট।

*

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন