AIDS কী - এইডস এর লক্ষণ ও প্রতিকার

অনেকে প্রশ্ন করেছেন এইডস বা এইচ আই ভি কী এবং এইডস এর লক্ষণ ও প্রতিকারগুলো কি কি? আমরা আজকে এই বিষয়টি শেয়ার করতে চলেছি। ধৈর‌্য নিয়ে সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ুন আশা করছি বিষয়টি বুঝতে পারবেন। ইনশাআল্লাহ


AIDS কী - এইডস এর লক্ষণ ও প্রতিকার
AIDS কী - এইডস এর লক্ষণ ও প্রতিকার


এইডস (AIDS) কি?

এইডস হল একটি রোগ যার কারণে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস বা কমে যায়। এইডস এর পূর্ণরুপ হল - অ্যাকোয়ার্ড ইমিউন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম (Acquired Immune Deficiency Syndrome)। এখানে Acquired - অর্জিত, Immune - রোগ  প্রতিরোধ ক্ষমতা, Deficiency - হ্রাস, Syndrome - অবস্থা। অর্থাৎ বিশেষ কারনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে। 

HIV (Human Immunodeficiency Virus) নামক ভাইরাসের আক্রমণে এই রোগে সৃষ্টি হয়। এইচ আই ভি এর আক্রমণে মানুষের রক্তের শ্বেতরক্তকনিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট কোষ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এতে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যায়।

২০০০ সালে বিশ্বে এইচ আই ভি আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৬০ লক্ষ। এদের মধ্যে মারা যায় প্রায় ৩০ লক্ষ। আফ্রিকান দেশসমূহে HIV -র আক্রমন বেশি লক্ষ করা যায়।


বিশ্বের যে সব দেশে এইডস রোগী সবচেয়ে বেশি

বাংলাদেশে এইডস রোগীর সংখ্যা এখনও খুব বেশি নয়, মোট জনসংখ্যার ০.১ শতাংশ প্রায়। নিচে কয়েকটি সবচেয়ে বেশি এইডসে আক্রান্ত দেশের নাম দেওয়া হল।

সোয়াজিল্যান্ড - ২৮ শতাংশ

লেসোথো - ২৫ শতাংশ

সাউথ আফ্রিকা - ১৯ শতাংশ

জিম্বাবুয়ে - ১৪ শতাংশ 

উগান্ডা - ৭ শতাংশ ইত্যাদি।


এইডস বা এইচ আই ভি কিভাবে ছড়ায়

ধারণা করা হয় বানরের দেহে এই ভাইরাসটি ছিল যা সর্বপ্রথম আফ্রিকায় বানর থেকে মানুষে স্থান্তরিত হয়। পরে তা আমেরিকার, ইউরোপ তথা সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পরে। ১৯৮৩ সালে ফ্রান্সের পাস্তুর ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী Dr. Lue Montagnier এবং আমেরিকার ন্যাশনাল কেমিক্যাল ইনস্টিটিউট এর Dr. Robert Gallo ১৯৮৪ সালে পৃথকভাবে AIDS এর জীবাণু আবিষ্কার করেন।

যেভাবে এইডস এর ভাইরাস এইচ আই ভি ছড়ায়, 

বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে। নিচের কয়েকটি কারন দেওয়া হল:-

  • নারী-পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণে
  • সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহারে
  • সংক্রমিত রক্ত গ্রহন করলে
  • সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্মগ্রহনকারী শিশু
  • সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করলে
  • দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহনকারী ইত্যাদি।


এইডস রোগের লক্ষণ সমূহ

এইচ আই ভি ভাইরাস দ্বাড়া আক্রান্ত রোগীর শ্বেতরক্তকণিকা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ফলে রোগীর দেহ ধীরে ধীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারাতে থাকে এবং নিচে বর্ণিত লক্ষনগুলো প্রকাশ পেতে থাকে।

১. প্রাথমিক অবস্থায় দেহে জ্বর আসে এবং অপ্রত্যাশিতভাবে দীর্ঘায়িত হয়।
২. দেহের বিভিন্ন গ্রন্থি ফুলে যায়
৩. শরীর শুকিয়ে যায় এবং ওজন কমতে থাকে
৪. পেটে ব্যাথা হয় এবং খাবারে অনীহা সৃষ্টি হয়
৫. ফুসফুসে জীবাণুর আক্রমণ ঘটে এবং বুকে ব্যাথাসহ শুষ্ক কফ জমে
৬. অস্থিসন্ধিসমূহে প্রচন্ড ব্যথা সৃষ্টি হয় এবং জ্বালাপোড়া করে
৭. শ্বাসকষ্ট হয় এবং জিহ্বায় সাদা স্তর জমা থাকে
৮. ত্বকে মিউকাস ঝিল্লি বা যে কোনো ছিদ্র থেকে রক্তপাত হয়
৯. সার্বক্ষণিক মাথা ব্যথা এবং ক্রমশ: স্মৃতিশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়
১০. সংক্রমণের চূড়ান্ত পর‌্যায়ে রোগী যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অন্ধত্ব প্রভৃতি একাধিক রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে পরিশেষে মৃত্যুবরণ করে।

এইডস এর প্রতিকার করবেন যেভাবে

এইডস প্রতিরোধে নিচে বর্ণিত পদক্ষেপ গুলো নেওয়া উচিত:

১. নিরাপদ যৌন সঙ্গম করা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক বিধি মেনে চলা
২. অনিরাপদ যৌন মিলন সম্পর্কে জনগনকে সচেতন করা
৩. যৌন মিলনে কনডম ব্যবহার করা 
৪. ইনজেকশন গ্রহনের সময় ব্যবহৃত সিরিঞ্জ পুনরায় না ব্যবহার করা
৫. শিরার মাধ্যমে কোনো প্রকার ড্রাগ গ্রহন না করা
৬. সেলুনে একটি ব্লেড একবারই ব্যবহার করা
৭. সংক্রমিত ব্যক্তিকে চিহিৃত করে সম্পূর্ণ আলাদা রেখে চিকিৎসা করা
৮. পতিতাদের নিরাপদ যৌনতা সম্পর্কে সচেতন করা
৯. প্রতিবার মিলনকালে কনডম ব্যবহার করা ইত্যাদি।


AIDS এর চিকিৎসা 

এইডস এর চিকিৎসায় ৩ শ্রেণির ঔষধ প্রয়োগ করা হয়।

১. রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে HIV -র প্রতিলিপন ঠেকাতে রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ এনজাইমকে বাধা দিতে Nucleoside analogue Reverse Transcriptase Inhibitors (NRTIs) প্রয়োগ করা হয়।

২. Nucleoside analogue Reverse Transcriptase Inhibitors (NRTIs) ওষুধ খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে রোগী ওলট-পালট স্বপ্ন দেখে, সবসময় নিদ্রালু থাকে প্রভৃতি।

৩. HIV -র জীবন চক্রের শেষ পর‌্যায়ে HIV Protease এনজাইমের কাজে বাধা দিতে Protease Inhibitors (PIs) জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। তবে জানা গেছে, এইচ আই ভি এর ভ্যাকসিন এখন পর‌্যন্ত আবিষ্কার হয়নি।


শেষকথা: 

আশা করছি আপনি সম্পূর্ণ লেখাটি পড়েছেন। যদি পড়েন তাহলে অবশ্যই কিছুটা ধারনা পাবেন। ইনশাআল্লাহ



নিচের ভিডিওটি দেখতে পারেন। তাহলে আরো ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন এইডস এর লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে:




আরো পড়ুন: জৈব রসায়নের গুরুত্বপূর্ণ ৩১টি প্রশ্ন ও উত্তর | জৈব রসায়ন MCQ



কিওয়ার্ড: এইডস এর লক্ষণ ও কারণ, এইডস কি, এইডস এর পূর্ণরূপ কি, এইডস এর লক্ষণ গুলো কি কি, এইডস কত দিন পর ধরা পরে, এইডস পরীক্ষা করতে কত টাকা লাগে, এইডস এর ঔষধ, এইডস আক্রান্ত শীর্ষ দেশ, এইডস কিভাবে ছড়ায়, ঘরে বসে এইডস পরীক্ষা, এইডস কিভাবে হয়, aids full form, এইডস প্রতিরোধের উপায়, এইডস এর চিকিৎসা, এইডস থেকে বাঁচার উপায়, বিশ্বের কোন দেশে সবচেয়ে বেশি এইডস রোগী রয়েছে, এইডস এর কারণ, এইডস এর লক্ষণ গুলো কি কি, এইডস রচনা, বিশ্বে প্রথম এইডস রোগী চিহ্নিত হয় কোন দেশে, AIDS, এইডস এর লক্ষণ ও প্রতিকার

*

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন